বন অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০১৭

ফরেস্ট্রি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, সিলেট

 

পটভূমি ঃ

ব্রিটিশ ভারতে তদানীন্তন অবিভক্ত বঙ্গে ভারতের দার্জিলিং এর কাছে কার্শিয়াং এ একটি ফরেস্ট স্কুল ছিল। ১৯৪৭ সনে দেশ ভাগের পর এটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে মাঠ পর্যায়ের বন কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। এ অবস্থায় মাঠ পর্যায়ের বন কর্মীদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ভারতের কার্শিয়াং এর মডেলে সিলেট শহরের অদূরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা বাহিনীর কয়েকটি পরিত্যক্ত স্থাপনাকে কেন্দ্র করে “ইষ্ট পাকিস্তান ফরেস্ট ইনস্টিটিউট” নামে পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র ফরেস্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় “ইষ্ট পাকিস্তান ফরেস্ট স্কুল” এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর এর নাম হয় বাংলাদেশ বন বিদ্যালয়, সিলেট। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং-পবম/বন শাখা-৩/বন-২৭/০৫/৩৫৫ তারিখঃ ০৬/০৫/২০০৯ইং হতে বাংলাদেশ বন বিদ্যালয়, সিলেটের নাম পরিবর্তন করে ফরেস্ট্রি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউ, সিলেট করা হয়েছে।

 

                                

        ফরেষ্ট্রি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট,সিলেট                                     চা বাগান সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস

 

অবস্থান ঃ

ফরেস্ট্রি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউ, সিলেট। সিলেট শহর হতে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দূরে সিলেট বিমান বন্দর সড়কে খাদিমনগর ইউনিয়নের বড়শালা নামক স্থানে ৩৬.৫৭ একর জমির উপর অবস্থিত। এর পূর্ব পার্শ্বে সিলেট ক্যাডেট কলেজ, দক্ষিণ পার্শ্বে আলী বাহার চা বাগান এবং  উত্তর দিকে নয়াবাজার ও বড়শালা আবাসিক এলাকা রয়েছে। ইনস্টিটিউটের ভূপ্রকৃতি সমতল এবং ছোট ছোট টিলার সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় এর নান্দনিক দৃশ্য।

 

                                    

                                                                                                                     প্রশিক্ষণার্থীদের বৈকালীন খেলাধূলা

 

চোখ জুড়িয়ে যায়। এর পার্শ্বে রয়েছে পর্যটকদের জন্য পর্যটন কর্পোরেশণ এর মোটেল এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য বেসরকারী এ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড। এই প্রতিষ্ঠানে ৩৮ জন কর্মচারী কর্মকর্তার পদ রয়েছে।

 

 

 ঈদ পূণর্মিলনী ও বিজয়োৎসব

 

 

উদ্দেশ্যঃ

 

এ প্রতিষ্ঠানটি মূলতঃ বন বিভাগে নিয়োজিত মাঠকর্মী বিশেষভাবে ফরেস্টারদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে সাব-টেকনিক্যাল কর্মী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ ইং সন হতে বন প্রহরীদের জন্য প্রথমে তিন মাস মেয়াদী ও পরবর্তীতে চারমাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সও চালু করা হয়। এছাড়া বন বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থা, কর্ণফুলী পেপার মিলস লিঃ, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস লিঃ ও খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস লিঃ থেকে প্রেরিত প্রশিক্ষণার্থীদেরকে এখানে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

 

অবকাঠামো ঃ

এ ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, আবাসিক ভবন, ব্যারাক ইত্যাদিসহ মোট ৬৪টি অবকাঠামো রয়েছে। এছাড়াও সিলেট বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়ায় -১টি, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাটে-১টি, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, ঢাকার ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কে-১টি, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে-১টি, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে-১টি এবং পাল্পউড বাগান বিভাগ, কাপ্তাই এ -১টি সহ মোট ৬টি ডরমিটরী ভবন রয়েছে যাতে শিক্ষা সফরের সময় প্রশিক্ষণার্থীগণ অবস্থান করতে পারে। বর্তমানে ডরমিটরীগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

প্রশিক্ষণ ঃ

১৯৪৮ সন হতে ১৯৮৪ সন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে ফরেস্টারদের এক বৎসর মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স চালু  ছিল। পরবর্তীতে কারিগরি  শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদী ‘‘ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি (ইন সার্ভিস)” কোর্স চালূ করা হয়। বর্তমানে প্রতি বছর ২টি ব্যাচে ৬০ জন ফরেস্টার এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।

ফরেস্ট্রি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, সিলেট থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিবরণ নিম্নোক্ত ছকে প্রদান করা হলোঃ

ক্রমিক নং             কোর্সের নাম সন

প্রশিক্ষণাথীর সংখ্যা

১।           

ফরেস্টারদের ১ বছর মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স ১৯৪৮-১৯৮৪

১১৮২ জন

২।                        ফরেস্টারদের ৩ মাস মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স ১৯৯৭-১৯৯৮     ৫৫ জন
৩।   ফরেস্টার/প্লান্টেশন সহকারী/এনজিও স্টাফদের ১০ দিন মেয়াদীয় প্রশিক্ষণ কোর্স     ১৯৯৯-২০০২   ৩০৬ জন
৪।   বন প্রহরীদের ৩ মাস  মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স   ১৯৬৬-১৯৮৬ ৭০১ জন
৫।  বন প্রহরীদের ৪ মাস  মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স   ১৯৮০-১৯৮৬  ৪১৪ জন
৬। বাগান মালীদের ১১ দিন মেয়াদী সামাজিক বনায়ন প্রশিক্ষণ কোর্স   ২০০১-২০০৪ ৪৮৫ জন
৭।   অফিস সহকারীদের দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ কোর্স ১৯৯৯ ১৯ জন
৮।  ফরেস্টারদের ২ বছর মেয়াদী  ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি  (ইন সার্ভিস)  ১৯৮৫-২০১৬ ৫৯০ জন
 মোট  ৩৭৫২ জন

 

সম্ভাবনা ঃ

জন্মলগ্ন হতে অদ্যাবধি এখানে সংক্ষিপ্ত কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি (ইন সার্ভিস) কোর্সসহ বিভিন্ন মেয়াদী কোর্সে সহ¯্রাধিক বন কর্মী  ও অন্যান্য পেশাজীবি ব্যক্তি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রশিক্ষন লব্ধ জ্ঞান দিয়ে দেশের বন এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে অবকাঠামোগত অবস্থায় এক ব্যাচে ২৫ জনের বেশী প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হয় না। তবে ছাত্রাবাস মেরামত, প্রশিক্ষক, স্টাফ ও আসবাবপত্রের সংস্থান করা হলে ৫০ জন ছাত্রকে একই সাথে প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হবে। এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে আগামীর বন কর্মীদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে টেকসই বন ব্যবস্থাপনার হাতয়ার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

 

 

 

 


Share with :